রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ লাইনম্যান নূর আলম, চিকিৎসার মধ্যেই বদলি নিয়ে বিপাকে কেরানীগঞ্জে ডিবির অভিযানে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকর্মী গ্রেপ্তার কেরানীগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ দুধে ভেজাল নয়, চাই নিরাপদ খাদ্য উল্লাপাড়ায় দুগ্ধ ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা উল্লাপাড়ায় ভেজালবিরোধী অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা নান্দনিক পরিবেশে সাহিত্যচর্চা, এম এ তাহেরের বাড়িতে রূপগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের ৮১তম সভা উল্লাপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে ফরহাদকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা। বছিলায় বুড়িগঙ্গায় জমকালো নৌকাবাইচ, ঐতিহ্যের উৎসবে মেতেছে নদীর দুই পাড়।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ লাইনম্যান নূর আলম, চিকিৎসার মধ্যেই বদলি নিয়ে বিপাকে

আরিফ সম্রাট, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) / ৪৯ ভিউ:
আপডেট সময়: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

আরিফ সম্রাট, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)

একসময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে মানুষের ঘরে আলো পৌঁছে দিতেন তিনি। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই ভয়াবহ বিদ্যুৎ দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হন ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর লাইনম্যান গ্রেড-১ মো. নূর আলম। শরীরের ১১ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি তিনি। এরই মধ্যে তাকে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বদলি করায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এই বিদ্যুৎকর্মী। নূর আলম ভোলার চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার অভিযোগ, কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পরও চিকিৎসা ও কর্মস্থলসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় মানবিক বিবেচনায় তাকে আগের কর্মস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। নূর আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর সদর দপ্তরের উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি লাইনে কাজ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। তার দাবি, ভুল শাটডাউনের কারণে লাইনে গ্রাউন্ডিং করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। নূর আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) ও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার উপস্থিত ছিলেন। একই সময়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর জেনারেল ম্যানেজারও ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন বলে জানান তিনি। ভুল শাটডাউনের কারণে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, বিদ্যুৎ লাইনে কাজের আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব কী ছিল-এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নূর আলমকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকেরা তার শরীরের প্রায় ১১ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি জানান।

প্রায় ৪০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর আবার কর্মস্থলে যোগ দেন নূর আলম। তবে তার দাবি, চিকিৎসা নেওয়ার পরও শরীরের পোড়া স্থানে এখনো জ্বালাপোড়া রয়েছে। এ কারণে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাকে। নূর আলমের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ তাকে ১২ দিনের ছুটি মঞ্জুর করে। পরে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আবেদন জানালে তাকে জোনাল অফিসে বদলি করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পর বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) নির্দেশনায় তাকে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বদলি করা হয়। এতে চলমান চিকিৎসার মধ্যে দূরের কর্মস্থলে গিয়ে দায়িত্ব পালন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, দুর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে বিআরইবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মানবসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট পরিচালক তাকে লিখিত আবেদন দিতে বলেন। এরপর তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দিয়ে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান। তবে দীর্ঘদিন পার হলেও তার আবেদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

নূর আলম বলেন, আমি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি। এতে আমার কী অপরাধ? এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি, চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাকে দূরের কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। আমার বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে আগের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বদলি করে সেখানে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম কাউছার তালুকদার বলেন, নূর আলম আহত হওয়ার পর তাকে ঢাকা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সেই চিকিৎসার খরচ সবাই মিলে বহন করেছিলেন। তার বদলির বিষয়টি তার হাতে নেই বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া দুর্ঘটনার সময় যারা তাকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ভুল শাটডাউন, গ্রাউন্ডিং প্রক্রিয়া এবং দুর্ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নূর আলমের বদলির সিদ্ধান্তের কারণ, বর্তমান চিকিৎসার অবস্থা এবং আগের কর্মস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

একজন বিদ্যুৎকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসা ও কর্মস্থল নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন নূর আলম। এখন তার প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে এবং তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে মানবিক সিদ্ধান্ত নেবে, যাতে তিনি চিকিৎসা চালিয়ে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর