নিজস্ব প্রতিবেদক >>
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা উপজেলার হাটিকুমরুল এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের বাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. মোর্শেদুল ইসলাম সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. মোর্শেদুল ইসলাম হাটিকুমরুল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং পেশায় একজন গণমাধ্যমকর্মী। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ১১টার দিকে সলঙ্গা থানার চড়িয়া মৌজার রাজশাহী মহাসড়কসংলগ্ন একটি পিকআপ স্ট্যান্ডে কয়েকজন ব্যক্তির মাদক সেবনের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।
তার দাবি, ওই ঘটনার জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল প্রায় ৩টার দিকে লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত ৪০ থেকে ৪৫ জনের একটি দল তার বাড়িতে হামলা চালায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করলে তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। তার ডাক-চিৎকারে স্ত্রী নাসরিন খাতুন এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার গলায় থাকা প্রায় ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা বৃদ্ধা মাকেও মারধর করা হয় এবং তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজন ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে একটি স্টিলের বক্স ভেঙে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নগদ অর্থ নিয়ে যায়। একই সঙ্গে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে অন্তত ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হয়।
ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। এ কারণে তিনি ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
এবিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আসলাম আলী জানান এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য পুলিশ কাজ করছে। অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।