রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নিজের গতি নয়, অন্যের বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় হৃদয়ের মৃত্যু: পরিবার কেরানীগঞ্জে ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সমাবেশ কেরানীগঞ্জে ১১ বছরের শিশুর বিয়ে, বর-বাবা ও ঘটকের কারাদণ্ড বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া মহাসড়কে চলবে না স্লিপার বাস: হাইকোর্ট সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে জ্বালানিমন্ত্রীর বাসার গ্যাস রাইজারে আগুন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কেরানীগঞ্জে অবৈধ সার কারখানায় মোবাইল কোর্ট, মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার আর দেশে ফিরতে পারবে না: আমান উল্লাহ আমান উল্লাপাড়ায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষের্্যালী ও আলোচনা সভা ভূমি দখলবাজদের রুখতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ: গয়েশ্বরের

নিজের গতি নয়, অন্যের বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় হৃদয়ের মৃত্যু: পরিবার

আরিফ সম্রাট, কেরানীগঞ্জ(ঢাকা) / ৩০ ভিউ:
আপডেট সময়: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন

আরিফ সম্রাট, কেরানীগঞ্জ(ঢাকা)

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সৌদি প্রবাসী হৃদয় হোসেন (২৫) নিহতের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পরিবারের দাবি, নিজের মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত গতির কারণে নয়, পেছন থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন হৃদয়।

ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে হৃদয় দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তবে তার পরিবার ও ভ্রমণসঙ্গীদের দাবি, ঘটনার সময় হৃদয় স্বাভাবিক গতিতেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন।

নিহতের বোন মিতু বলেন, ‘সব মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে, আমার ভাই গতির কারণে মারা গেছে। এটা সত্য নয়। আমার বাবা হারা দুই বোনের একমাত্র ভাই ছিল হৃদয়। এলাকায় সে নম্র-ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল। তার স্ত্রী ও দেড় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আমার ভাইকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারের বিচার চাই।’

তিনি অভিযোগ করেন, প্রতি বৃহস্পতিবার কিছু উশৃঙ্খল বাইকার এই সড়কে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো ও রেস করে থাকে। তাদের বেপরোয়া গতির কারণেই হৃদয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

হৃদয়ের ভ্রমণসঙ্গী ইয়াসিন জানান, ঘটনার সময় তারা প্রায় ১০ বন্ধু মোটরসাইকেলে করে মাওয়া থেকে ঢাকার দিকে ফিরছিলেন। মাওয়া ঘাটে ইলিশ খাওয়ার পর তারা স্বাভাবিক গতিতে ঢাকার দিকে আসছিলেন। কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে পেছন থেকে একটি রাইডার গ্রুপ এসে হৃদয়ের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আরেক ভ্রমণসঙ্গীর দাবি, পেছন থেকে আসা মোটরসাইকেলগুলোর গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটারের বেশি ছিল।

দুর্ঘটনার পর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এতে চালক হৃদয় হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং তার সঙ্গে থাকা আরোহী সাজ্জাদ (২৪) আহত হন।

তবে পরিবারের বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যেও ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। সে অন্য একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মারা গেছে। আমরা তদন্ত করে বেপরোয়া ওই বাইকারদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে।’

নিহত হৃদয় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রসুলপুর-আব্দুল্লাহপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। প্রায় চার মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। আগামী ৩ অক্টোবর তার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। স্ত্রী ও দেড় বছরের কন্যাসন্তান রেখে গেছেন তিনি।

পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলের ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যথাযথভাবে যাচাই করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর