মাহবুবা কাজল >>
দেশের মফস্বল সাংবাদিকতার বিকাশ, সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মুক্ত সাংবাদিকতার চর্চায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া বিশিষ্ট সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমান-এর আজ জন্মদিন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দেশের একজন আস্থাভাজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে।
বৃহত্তর পাবনার কৃতি সন্তান এবিএম ফজলুর রহমান ১৯৬৯ সালের ৩০ জুন সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও পাবনা জেলা বোর্ডের সাবেক সদস্য নূরুল হুদা মিয়া এবং মাতা মরহুমা হামিদা খাতুন।
ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ তৈরি হয়। রংপুর কারমাইকেল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় স্থানীয় দৈনিক দাবানল-এর মাধ্যমে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে দৈনিক রানার ও দৈনিক নব অভিযান-এর পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে পেশাগত সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে দৈনিক দেশ, ইউএনবি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব বাংলাদেশ (এপিবি), দৈনিক যুগান্তর, এনটিভি এবং দৈনিক সমকাল-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক সমকাল-এর পাবনা ব্যুরো প্রধান এবং এনটিভির পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পাবনার সাংবাদিক সমাজে তাঁর নেতৃত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি টানা তিন মেয়াদে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন। পরবর্তীতে একাধিকবার প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে ও রয়টার্সের স্ট্রিংগার এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পাবনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৯৪ সালে তিনি পাবনা থেকে প্রতিষ্ঠা করেন সংবাদ সংস্থা পিপ (People Interested Press), যা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলার শত শত আঞ্চলিক সংবাদপত্রে সংবাদ সরবরাহ করে আসছে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচিত পরিচালক, এফবিসিসিআই-এর সাধারণ সদস্য, কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) পাবনা জেলা শাখার সভাপতি, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন, পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো তথ্যনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা এবং জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকার। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন এবং সত্য প্রকাশে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি পাঠক, দর্শক ও সহকর্মীদের কাছে একজন নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক হিসেবে সুপরিচিত। নানা প্রতিকূলতা ও চাপের মধ্যেও তিনি কখনো পেশাগত নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
ব্যক্তিজীবনেও এবিএম ফজলুর রহমান একজন সাদামাটা, মানবিক ও সমাজসচেতন মানুষ। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা এবং পেশাগত মানোন্নয়নে তিনি নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। তাঁর এই অবদান তাঁকে শুধু একজন সাংবাদিক নয়, একজন সফল সংগঠক ও অভিভাবক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে তিনি মস্কোতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড অ্যাটমিক উইক-এ অংশগ্রহণ করেন, যা তাঁর পেশাগত জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
পারিবারিক জীবনেও তিনি সফল। তাঁর সহধর্মিণী মাহবুবা রহমান কাজল দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের দুই সন্তান নিজ নিজ ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছেন।
এবিএম ফজলুর রহমানের দীর্ঘ কর্মময় জীবন, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, নেতৃত্বগুণ এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
জন্মদিনে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, কর্মময় জীবন এবং অব্যাহত সাফল্য কামনা করছি। সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থের পক্ষে তাঁর দৃঢ় অবস্থান আগামী দিনেও দেশের সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করবে এটাই সবার প্রত্যাশা। সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমানের সহধর্মিনী মাহবুবা কাজল
সহসভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, পাবনা।
সদস্য, কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, পাবনা।
https://shorturl.fm/gz65k
https://shorturl.fm/AjzID
https://shorturl.fm/KIpgx
https://shorturl.fm/CHvVq
https://shorturl.fm/lgb4t