নিজস্ব প্রতিবেদক >>
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা মহাসড়কে নাটকীয় অভিযানে এক আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় ডাকাতদের বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান, দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টায় সলঙ্গা থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রায়গঞ্জ-সলঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃত সুরুজ রংপুর জেলার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একটি আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, জেলা পুলিশ সুপার সাইফুর ইসলাম, বিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় কয়েক দিন ধরে চক্রটির ওপর নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সিরাজগঞ্জ ও আশপাশের জেলাগুলোতে সংঘটিত একাধিক ডাকাতি ও চুরির ঘটনার বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির পরিচয় নিশ্চিত হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ জুন গভীর রাতে চক্রটির সদস্যরা সলঙ্গা থানা এলাকায় প্রবেশ করলে পুলিশের একটি দল তাদের ধাওয়া করে। তবে একটি সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে চক্রটির অবস্থান সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার পর জেলা পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। এরপর সন্ধ্যা থেকেই সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল হাটিকুমরুল গোলচত্বর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেয়। অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশের গাড়ির পাশাপাশি কৌশলগত কারণে কয়েকটি বেসামরিক ট্রাকও প্রস্তুত রাখা হয়।
গভীর রাতে ডাকাতদের পিকআপটি হাটিকুমরুল ঢাকাগামী আন্ডারপাস অতিক্রম করলে পুলিশ থামার সংকেত দেয়। কিন্তু সংকেত উপেক্ষা করে তারা দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় হাটিকুমরুল ঢাকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়কে সামনে ও পেছনে ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে পুলিশ।
পালানোর মরিয়া চেষ্টায় ডাকাতদের গাড়ি পুলিশের পিকআপ ভ্যানে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পুলিশের গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং কনস্টেবল রুহুল ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ডাকাতরা গাড়ি ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া করে সুরুজকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান, গ্রিল কাটার, চাপাতি, রশি, রিপার, লোহার রড, বালি, ইটের টুকরা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
আহত কনস্টেবল রুহুলকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সুরুজের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই করে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় আটজন এজাহারভুক্ত আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে সলঙ্গা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
https://shorturl.fm/DRuJj