কালের বেলা ডেস্ক >>
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ৬৫ বছর বয়সী এক দিনমজুরকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহত জাহের আলী জীবিকার তাগিদে দিনে দিনমজুর এবং রাতে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও থেমে থাকেননি জীবনের সংগ্রাম।
ঘটনাটি ঘটে গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ দিবাগত রাতে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও রাতের খাবার শেষে অটোরিকশা নিয়ে বের হন জাহের আলী। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাসেল নামের এক ব্যক্তি যাত্রী সেজে ৯০ টাকা ভাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা বলে তার অটোরিকশায় ওঠে। পথে ভূঁইয়াগাতি নুর পাম্পের কাছে প্রস্রাবের অজুহাতে নেমে একটি ইট সংগ্রহ করে সে।
পরে ফুলজোর নদীর তীরবর্তী নির্জন স্থানে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই ইট দিয়ে জাহের আলীর মাথায় আঘাত করে রাসেল। গুরুতর আহত অবস্থায় জাহের আলী প্রাণভিক্ষা চাইলেও কোনো দয়া দেখায়নি ঘাতক। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হলে লাশ নদীর তীরে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় রাসেল।
পরে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে দেওভোগ বাজারে বিক্রি করে দেয় সে। এমনকি বিক্রির পর ঘটনাস্থলে ফিরে গিয়ে নিহতের মরদেহ দেখে কোনো অনুশোচনা ছাড়াই চলে যায় যা তার নির্মমতার চরম উদাহরণ।
ঘটনার পর সলঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত রাসেলকে শনাক্ত করে। তবে সে আত্মগোপনে ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে রিকশা চালাতে শুরু করে। পরবর্তীতে পুলিশের অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর রাসেলকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয় এবং তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়। ইতোমধ্যে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আসলাম আলী, পিপিএম জানান এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলার আসামি বিজ্ঞ আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।
https://shorturl.fm/kWraF