কালের বেলা ডেস্ক >>
দেশের আপসহীন নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যাঁকে রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় দৃঢ়, সাহসী ও দৃপ্ত নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হয় চিকিৎসাকালীন সময়ে তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা যেন এক ভিন্ন, গভীরভাবে মানবিক রূপের সাক্ষ্য দেয়। এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার সময় দায়িত্ব পালন করা এক নার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক আবেগঘন লেখায় সেই অন্তরঙ্গ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
ওই নার্স লেখেন, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের এক অনন্য ও স্মরণীয় অধ্যায়। খুব কাছ থেকে তাঁকে দেখা, কথা বলা এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণ পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন বাইরে থেকে যাঁকে কঠোর ও আপসহীন নেত্রী বলে মনে হয়, ভেতরে ভেতরে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সরল, সংযত ও মানবিক একজন মানুষ।
গুরুতর অসুস্থতার মাঝেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো কাউকে কষ্ট দিতে চাইতেন না। একজন রোগী হয়েও নিজের শারীরিক কষ্ট আড়াল করে নার্সদের খোঁজ নেওয়া, তাঁদের কাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এই মানবিক গুণাবলি নার্সটির হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। দায়িত্ব পালনের সময় বারবার ধন্যবাদ জানানোয় তিনি বিস্মিত ও আপ্লুত হন বলে লেখায় উল্লেখ করেন।
নার্সের ভাষ্যমতে, সময়ের মূল্য দেওয়া ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সচেতন, তবে কখনোই কঠোর নন। সাধারণ মানুষের প্রসঙ্গ উঠলেই তাঁর চোখেমুখে ফুটে উঠত ভিন্ন এক আবেগ যেখানে ক্ষমতা বা পদমর্যাদার অহংকার নয়, বরং মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসাই ছিল মুখ্য।
লেখার শেষাংশে ওই নার্স উল্লেখ করেন, খুব কাছ থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে দেখার পর তাঁর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে সরলতা ও মানবিকতাই একজন মানুষকে সত্যিকারের মহান করে তোলে। এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রোগশয্যাতেও যে মানবিকতা, সংযম ও মমতার আলো ছড়িয়ে দেওয়া যায় বেগম খালেদা জিয়া যেন তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন। পরিশেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে কর্তব্যরত ওই নার্স মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দেশের সাবেক সফল তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেছেন।