নিজস্ব প্রতিবেদক >>
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নে ইভটিজিংয়ে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে শাহ আলম (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি রশিদপুর গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, উপজেলার কাশিনাথপুর ও রশিদপুর গ্রামের কিছু যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, কাশিনাথপুর গ্রামের কয়েকজন যুবক নিয়মিত রশিদপুর উত্তরপাড়া এলাকায় গিয়ে আড্ডা দিতেন এবং স্থানীয় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানান রশিদপুর গ্রামের লোকজন।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অতর্কিত হামলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র মারামারি শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
গুরুতর আহত শাহ আলমকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হলেও সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ ও প্রশাসনিক কঠোরতা একসঙ্গে প্রয়োজন। অন্যথায় সামান্য বিরোধও বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করল সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।