বৃহস্পতিবার , ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স সশস্ত্র বাহিনীকে প্রধান উপদেষ্টার কড়া নির্দেশনা

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

কালের বেলা ডেস্ক >>

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এই সংবেদনশীল সময়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আজ সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রদত্ত ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে এ বিষয়ে সরকার দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

প্রধান উপদেষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চিত একটি জাতি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার পুনরুদ্ধারের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে মতামত জানাবে এবং সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে।

প্রধান উপদেষ্টা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। পাশাপাশি এমন অনেক নাগরিক রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এই বাস্তবতায় সব ভোটারের জন্য ভয়মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ের সব সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল। কোনো ধরনের বিচ্যুতি যেন জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ভয় বা প্রভাব ছাড়াই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা উপেক্ষিত ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেই অবস্থার পরিবর্তন সূচনা করেছে। সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী ও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর স্বনির্ভরতা বাড়াতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ইতালি, জাপান, থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনুরূপ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও আভিযানিক দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান।

মতবিনিময় সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।