কালের বেলা ডেস্ক >>
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার শরীফ সলঙ্গা গ্রামে এক পরিবারের ওপর কথিত সশস্ত্র হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গুরুতর আহত দুই ব্যক্তির ন্যায়বিচার নিশ্চিত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
শরীফ সলঙ্গা গ্রাম থেকে শুরু হওয়া মানববন্ধন ও পদযাত্রা সলঙ্গা-নিমগাছি সড়ক প্রদক্ষিণ করে সলঙ্গা থানা মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মাওলানা আশরাফুল ইসলাম ও আলমাছকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা বলেন, একটি সভ্য সমাজে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মতবিরোধ বা বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র পথ আইনের শাসন ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া। তাই প্রকৃত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে শরীফ সলঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী মানিক জানান, নূরুল ইসলামের মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে শাকিল আহমেদ উত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি শাকিলের বাবা আব্দুর রাজ্জাককে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগকারী নূরুল ইসলামের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ববিরোধের জেরে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এতে নূরুল ইসলামের ছোট ভাই আলমাছ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে নূরুল ইসলামের ছেলে মাওলানা আশরাফুল ইসলামও ছুরিকাঘাতের শিকার হন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।
আহতদের প্রথমে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আশরাফুল ইসলামের ফুসফুসে গুরুতর আঘাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সলঙ্গা থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় ঘরের তালা ভেঙে চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত নগদ ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুট করা হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা সলঙ্গা থানায় জমা দিয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. নূরুল ইসলাম সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মো. শাকিল আহমেদ, তার বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার, মো. সৈকত, তাদের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এবং অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সন্ত্রাস, সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টার মতো অপরাধ সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা সকলকে আইনকে সম্মান করা, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানান।